এস. এম. বিল্লাল, নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী সদর হাসপাতালে এক বৃদ্ধার স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার নারীকে আটক করা হলেও, পরবর্তীতে চেইন উদ্ধার হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি গত ১ এপ্রিল বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিমা বেগম (৫৫) রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নে নলবাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের ৫ নম্বর কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় এক অপরিচিত নারী তার সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তিনি খেয়াল করেন, তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনটি নেই।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার দিলে তার ছেলের স্ত্রী খাদিজা সন্দেহভাজন নারীদের ধাওয়া করেন।এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তায় চারজন নারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের দত্তপাড়া এলাকার একটি বাসায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক নারীদের একজন খায়রুন বেগম চেইনটি তাদের এক সহযোগীর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ছিনতাইকৃত চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
আটক নারীরা হলেন— খায়রুন বেগম (২৮), রুমা বেগম (২৮), সাদিয়া বেগম (২১) ও জোসনা বেগম (১৯)। তাদের দাবি, এ ঘটনায় আরও সদস্য জড়িত রয়েছে এবং চেইনটি গাউসিয়া এলাকা থেকে পাঠানো হয়েছে। চেইনটি উদ্ধার হওয়ার পর ভুক্তভোগী রাহিমা বেগম ও তার পরিবার আইনি ঝামেলায় না জড়িয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আটক চার নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।তবে এ ঘটনায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সন্দেহের বশে এক নিরীহ নারী ও তার মেয়েকে ছিনতাইকারী দলের সদস্য হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হলে তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে করে অভিযুক্তরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।সচেতন মহল মনে করছে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা জোরদার এবং এমন অপরাধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।