মোমেন আকন্দ ,
গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৭ জন। এই ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কেউ মারা যায়নি।শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এই বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৮৬ জন পুরুষ ও ৯১ জন নারী। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৩৮ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।ভয়াবহ এই ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে আমাদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জানতে হবে, ডেঙ্গু কি? ডেঙ্গু আক্রান্তের লক্ষণ কি? কি কারনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়? ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে করণীয় কি? ডেঙ্গু কী? ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাস সংক্রমণ। এডিস মশার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। । ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে, ব্যক্তিটি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আবার, এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোন জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে, সেই মশাও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। ডেঙ্গু হওয়ার লক্ষণসমূহঃ ডেঙ্গু জ্বর সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে: ১) ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর ২)হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর। প্রকার অনুসারে ডেঙ্গুর লক্ষণও ভিন্ন হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর বিশেষ কোন উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় না। এটিকে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুই হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। অল্প কিছু ক্ষেত্রে রোগের প্রভাব গভীর হয়। ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ গুলো হলো-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উচ্চ জ্বর, মাথা এবং চোখে ব্যথা, মাংসপেশি ও অস্থি সন্ধিতে তীব্র যন্ত্রণা, বমি, মাথাঘোরা, গ্রন্থি সুস্থ হতে ফুসকুড়ি এবং ত্বকে বিভিন্ন স্থানে ফুসকুড়ির উপসর্গ হতে সাধারণভাবে ১০ দিনের মধ্যে আক্রান্ত হওয়া এবং সাধারণত ২-৭ দিনে স্থায়ী হতে পারে। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়। তাই পূর্বে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর গুরুতর লক্ষণ সমূহ ১) প্রচণ্ড পেট ব্যথা ২) ক্রমাগত বমি হওয়া ৩) মারি/ নাক থেকে রক্তপাত ৪)প্রস্রাবে এবং মলের সাথে রক্তপাত ৫) অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা ৬) ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (যা ক্ষতের মতো দেখাতে পারে), দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, ক্লান্তি, বিরক্তি এবং অস্থিরতা। এই লক্ষণগুল সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ থেকে ভিন্নতর।গুরুতর উপসর্গ দেখলে অতি শীঘ্রই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে অথবা রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও সাবধানতাঃ ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরি উপায় হলো সংক্রামিত মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এর জন্য মশার বংশ বিস্তারের সব রকম পরিবেশ সমূলে ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের অন্যতম উপায়গুলো হলোঃ ১)বর্ষার মৌসুমে বাড়ির ভিতরেও মশা নিরোধক ব্যবহার করে মশা থেকে পরিবার ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। ২)বাহিরে বের হলে লম্বা-হাতা শার্ট, লম্বা প্যান্ট এবং পায়ে মুজা পড়ে পুরো শরীর ঢেকে রাখার চেষ্টা করে যাতে মশা রোধ হয়।৩)মশার বংশবৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলো ধ্বংস করা উচিত, এবং ঘরের বাইরে পোষা পশু ও পাখির খাবারের পাত্রগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করে দেওয়া উচিত। ৪) আক্রান্ত ব্যক্তি থাকলে মশা রোধক ব্যবহার করে অন্য সদস্যদের সুরক্ষিত রাখার জন্য সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply