কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-মোঃ আব্দুল আজিজ ইসলাম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে কুড়িগ্রাম পৌরসভার রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ রাজনীতিক ও সাবেক ছাত্রনেতা ভিপি সিরাজুল ইসলাম। পৌরসভাকে আধুনিক ও জনবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোকেশনাল মোড়ের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি ও স্থানীয় সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা দেখান। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। এক সময়ের সেরা ফুটবলার হিসেবে স্থানীয় ক্রীড়া অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেন এবং ভোকেশনাল মোড় এলাকায় গড়ে ওঠা একটি স্পোর্টিং ক্লাবের নেতৃত্ব দেন দীর্ঘদিন। স্থানীয়দের মতে, এই সামাজিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে জনপ্রিয়তার জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। ভেলাকোপা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর বলেন, কুড়িগ্রাম পৌরসভায় এবার তরুণ ও কর্মঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় ভিপি সিরাজুল ইসলাম একজন যোগ্য প্রার্থী।
অন্যদিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আহসান হাবিবের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো ও নাগরিক সেবায় ঘাটতি থাকায় পৌরবাসী ভোগান্তিতে ছিলেন। তিনি বলেন, রাস্তা, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্ব দরকার। সিরাজুল ইসলাম নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করি।
নিজের প্রার্থিতা নিয়ে সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমার জন্ম এই পৌরসভায়। দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি নাগরিক সেবা পেতে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পৌরবাসীর সমর্থন নিয়ে একটি আধুনিক ও সেবামুখী পৌরসভা গড়াই আমার লক্ষ্য। তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বের চাহিদা ও স্থানীয় ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে তা কুড়িগ্রাম পৌরসভার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের মাঠে পৌরবাসী কতটা আস্থা রাখেন এই নতুন মুখের ওপর।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। সময়ই বলে দেবে—পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ভিপি সিরাজুল ইসলাম কতটা এগোতে পারেন।
Leave a Reply